Agricultural Policy Support Unit (APSU)

Ministry of Agriculture

Government of the People's Republic of Bangladesh

অস্থিরতায় বৈশাখী বাজারে ভাটা

Published on: এপ্রিল 13, 2015 | Tags: বৈশাখ. News Category: বৈশাখ.
111

রমনার বটমূল-এই শব্দ আর স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে পয়লা বৈশাখের উৎ​সব। রমনার বটমূলে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি হলো বাঙালিদের উৎসবের মূল কেন্দ্র। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানি সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বাঙালি সংস্কৃতিকে দলনের বিরুদ্ধে ছায়ানট বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডের কার্যক্রমের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানের সূত্রপাত করেছিল। সেই থেকে পয়লা বৈশাখের উৎসব আর বর্ষবরণের মূল অনুষ্ঠান মানেই রমনার বটমূল।
রমনার বটমূলে ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল, ১৪০৮ বঙ্গাব্দের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জন নিহত ও অনেকে আহত হন। এরপরও রমনার বটমূলে থেমে যায়নি ছায়ানটের বর্ষবরণ উৎসব, প্রতিবছরই এই উৎসবের ব্যাপ্তি বেড়েছে। এখন সেই রমনার বটমূল পেরিয়ে পুরো রাজধানীজুড়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুধু তাই নয়, সারা দেশে একই সময়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আয়োজন করা হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের।
বটমূলে ছায়ানট
রমনার বটমূলে শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। সেদিন সকাল থেকেই শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকনির্দেশনা মেনে দলে দলে মানুষ গিয়ে জমায়েত হন রমনার বটমূলে। মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতি তথা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রাধান্য দেওয়া হয় ছায়ানটের এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে। এবারে ‘শান্তি, মানবতা, মানুষের অধিকার’ শিরোনামের এবারে আয়োজন করা হবে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। ‘ধ্বনিল আহ্বান মধুর গম্ভীর প্রভাত অম্বর মাঝে’ এই রবীন্দ্র সংগীত দিয়ে শুরু হবে এবারের ছায়ানটের আয়োজন।
মঙ্গল শোভাযাত্রা
বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই বর্ণিল শোভাযাত্রায় যোগ দিতে এই দিন সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট ও ‘ছবির হাট’ এলাকা হয়ে ওঠে জনসমুদ্র। হাজারো মানুষ, গান, ঢাকঢোল আর বাঁশির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে চারুকলা চত্বর। এর সঙ্গে থাকে সমকালীন ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি প্রধান প্রতীক। চারুকলার নবীন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা মাস খানেক ধরে এসব প্রতীক ও সাজসরঞ্জাম তৈরি করেন। এখানে শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি, চিত্রিত সরা, মুখোশ, কাগজের পাখিসহ বিভিন্ন শিল্পকর্ম বিক্রি করা হয় সুলভ মূল্যে। আর এই অর্থ দিয়েই মঙ্গল শোভাযাত্রার অর্থের জোগান দেওয়া হয়।

Topics :