Agricultural Policy Support Unit (APSU)

Ministry of Agriculture

Government of the People's Republic of Bangladesh

এসবিএসির বার্ষিক সাধারণ সভা

Published on: এপ্রিল 13, 2015 | Tags: এসবিএসি. News Category: রাজনীতি.
111

বিষয়টি সাধারণভাবে জনগণের সমালোচনার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ওই মেয়রকে নির্বাচন ছাড়া অন্যভাবে সরানোর সুযোগ সৃষ্টির জন্য ২৯ নভেম্বর, ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন আইনে সংশোধনী আনে। সেই মোতাবেক অনির্বাচিত সরকার মনোনীত ব্যক্তির কাছে দায়িত্ব অর্পণের বিধান করা হয়। অবশেষে ঢাকা সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র ক্ষমতা গ্রহণের সাড়ে নয় বছর ও মেয়াদ শেষের প্রায় সাড়ে চার বছর পর ২৯ নভেম্বর, ২০১১ তারিখ দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
একই সংশোধনীতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ নামে দুটি সিটি করপোরেশনে ভাগ করা হয়। এ বিষয়টিও বিভিন্ন মহলে অপ্রয়োজনীয় বলে গণ্য হয়। সে সময়কার পরিস্থিতিতে আওয়ামী-সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় লাভ সহজতর হবে মনে করেই করা হয়েছে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন। তখন থেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য দিন-তারিখ নিয়ে আকার-ইঙ্গিতে আভাস দেখা যেতে থাকে। কিন্তু ২৯ নভেম্বর, ২০১১ থেকে আজ অবধি এই দীর্ঘ সময় আমলাদের মাধ্যমেই ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালিত হয়ে আসছে।
২০১৫ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সহিংসতা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চ মাসের শেষ পর্যায়ে ওই সিটি করপোরেশনসমূহের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। হঠাৎ করে এমন একটি সময়ে নির্বাচন ঘোষণার কারণ কী হতে পারে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি না—এ বিষয়গুলো এখন জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করছে, আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন আঙ্গিকে।
কারও কারও মতে, উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঠান্ডা করার উদ্দেশ্যে কৌশল হিসেবে সরকার এ চাল দিয়েছে। তাঁদের মতে, বিএনপি ও ২০-দলীয় জোটের জন্য এটি একটি ফাঁদ। তারা নির্বাচনে অংশ নিলে আন্দোলনের ইস্যুসমূহ চাপা পড়ে যাবে এবং দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে নির্বাচন ঘোষণার কিছুদিন আগে থেকে এমনিতেই আন্দোলনের তীব্রতা হ্রাস পেতে শুরু করেছিল নানা কারণে।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করতে পারবেন না—এ আশঙ্কা থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন বারবার বিলম্বিত করা হয়েছে, নির্বাচনী আইন সংস্কার করা হয়েছে, এমনকি ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে—এই অভিযোগসমূহকে গ্রহণযোগ্য মনে করলে, যেকোনোভাবেই হোক নির্বাচনে (বিশেষ করে ঢাকা সিটি করপোরেশনসমূহের) জয়লাভ করতে হবে, আওয়ামী লীগ এ নীতিতে বিশ্বাসী বলা যায়। সেই পেরিপ্রেক্ষিতে কিছু মানুষের বক্তব্য, চরম আন্দোলনের মধ্যে বিএনপি ও ২০-দলীয় জোট নির্বাচন বয়কট করবে এবং আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারবে—এ ধারণা থেকেই নির্বাচনের ঘোষণা। সেই বিবেচনায় বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগকে বিপাকে ফেলেছে। তাদের ধারণা, এখন অনুগত নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের সহায়তায় যেনতেন প্রকারে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
এ ধরনের চিন্তাধারা যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তা হবে দুঃখজনক। এতে করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি দেশবাসীর জন্য বয়ে আনতে পারে দুর্ভোগ। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পরাজিত হবে গণতন্ত্র। এতে করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলে কুঠারাঘাত করা হবে। অবশ্য অনেকেই মনে করছেন, বিএনপি ও ২০-দলীয় জোটের জন্য ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের পথ থেকে বেরিয়ে আসার সম্মানজনক বহির্গমনের একটি রাস্তা হতে পারে এ নির্বাচন। সে উদ্দেশ্য নিয়েই সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্দোলনরত দলসমূহ স্বাভাবিক রাজনীতির ধারায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে। দেশে শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা স্থাপনের পথ উন্মুক্ত হবে।
উদ্দেশ্য যদি এই হয়, তা নিঃসন্দেহে দেশবাসীর জন্য সুখবর। তবে, সে ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হবে বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে বিরোধী মহলে আস্থা সৃষ্টি করা। পরে সুবিধাজনক সময়ে সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক সমস্যা ও বিরোধ মীমাংসার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই হবে বাঞ্ছনীয়।

Topics :